শ্রাবণের স্তব্ধতায় কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

শ্রাবণের স্তব্ধতায়
কবিতা: শ্রাবণের স্তব্ধতায়
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

কোনও এক শ্রাবণের স্তব্ধতায়- জাফরান-রঙের ভিতরে
দাঁড়ায়েছিলাম দূর বারান্দায়- মেঘের প্রাসাদে
সময় করিছে খেলা, দেখিলাম- পৃথিবীর ক্লান্ত চরাচরে
এই দূর মেঘদেশে- মানুষের হৃদয়ের সাধে
বাধা সে দেয় না আর- বৃষ্টি যেন হয়ে গেছে- ক্রমে সন্ধ্যা আসে
তবুও সন্ধ্যার রং কোনও দিন হয় না ক’ গাঢ়
মৃত্যুর মতন সেই মমতায়- ভিজে শান্ত মেঘের আকাশে
মুখে চেয়ে কহিল কে: বলিতে কি পারো
ঢের দূরে আমাদের চোখ যায়- তার পর- তবু- দূর পারে
আমাদের নয়নের সাদা হিম বধিরেরা যেন
ঘোড়া’দের মতো সব কঙ্কালের মতন পাহাড়ে
স্নিগ্ধ হয়ে প’ড়ে থাকে- কহিল সে- কেন?-
চোখ তুলে দু’টো সাদা ডিম দিয়ে তারে আমি দেখিলাম-
এক দিন কোন এক পৃথিবীতে দূরে
যেই সব কথা, গল্প, স্পর্শ, মুখ, অশ্রু, অবয়ব
সাপিনি’র মতো যেন খেলে গেছে- তার সেই রূপ নিয়ে মায়াবী সাপুড়ে
(যেমন বনের কাছে বসে’ থাকে- রোমহর্ষে চিনিলাম সব)
বনের নিকটে যেন দাঁড়ায়েছি- আষাঢ়ের গোধূলির মতন নীরব।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷