যুবকটির কোনও চাকরি নেই কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৫ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

যুবকটির কোনও চাকরি নেই
কবিতা: যুবকটির কোনও চাকরি নেই
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

এই যুবকটির কোনও চাকরি নেই
সমস্ত দিন- সমস্ত রাত- তার হাতের জিনিস;
কিন্তু এই দীর্ঘ অবসর হাঁপানি-রুগির নিষ্ক্রিয় রাত-জাগার মতো।
সে চাকরি খোঁজে না আর
কারণ, মা বেরিবেরিতে মারা গেছেন; বাবা কুষ্ঠাশ্রমে; একা সে।
এরা দু’জনে পরামর্শ ক’রে কেন-যে তাকে জন্ম দিয়েছিল
কিন্তু তবুও অজস্র সন্তানের জন্ম দেবার জন্য আবেগ আসে তার হৃদয়ে
এই তুচ্ছ, সামান্য, কুৎসিত, অথচ স্বর্গীয় ব্যবহারের জন্য
চাকরির প্রয়োজন;
কিন্তু তার চেয়েও প্রয়োজন ভাতের জন্য
বড়-বড় ইঁদুর পাইপের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে
মেসের এঁটো থালার ভাত খেয়ে জ্যামিতির প্রমাণ শেষ ক’রে- তার পর দাম্পত্যের গর্তে প্রবেশ করে।
রাস্তায় বেরুলে কুঠে তাকে সেলাম করে- একটি পয়সার জন্য
এই হাত তার- এই হৃদয়
জীবনের কঠিন সঙ্গতিকে অসঙ্গত হতে দেয় না।
এমন-কী- কোনও দিন চাকরি না পেলেও;
তবুও চাকরি তোমাকে পেতে হবে
কারণ, জীবনের সঙ্গতির ভিতর অসঙ্গত হতে পারবে না তুমি,
হে যুবক, চাকরি তুমি পাও আর না পাও-
কলকাতার ট্রাম-বাস-বোঝাই কেরানির দল
কিংবা টেলিফোন-ডাইরেক্টরির ভিতরে ঈশ্বরের শত কোটি নাম
দেব-ভাষায় তাকে বলে।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷