এই জ্যোৎস্নারাতে চাঁদ । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

এই জ্যোৎস্নারাতে চাঁদ কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৮ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

 

এই জ্যোৎস্নারাতে চাঁদ । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

এই জ্যোৎস্নারাতে চাঁদ

কবিতা: এই জ্যোৎস্নারাতে চাঁদ
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

 

এই জ্যোৎস্নারাতে চাঁদ । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

আমি সেই শিশুটিরে বলিলাম-
‘এই জ্যোৎস্নারাতে চাঁদ আর কিছু নয়- নাবিকের মতো
ঢের এরোপ্লেনে চ’ড়ে একাই সে ফিরিতেছে
কোনও মেঠো মণ্ডপের বৈষ্ণবের মোচ্ছবের তরে নয়
নামকীর্তনের দিন হয়ে গেছে অবশেষ বহু দিন আগে তার
ভাবিতেছে মঠ- গির্জা- হাট- ঘাঁটি- বস্তি- মিনার
চারি-দিকে শিশু আর বালিকার
পুতুলখেলার মাঝে এই সব কী অদ্ভুত

চায়ের টেবিলে বাবা, দাদা, দিদি, মা’-রা ব’সে চামচ নাড়িছে ধীরে-ধীরে
মুহূর্তেই হয়ে গেল হাড়গোড়- ভূত- ছবির বইয়ের মতো যেন
তবু তারা লোকবিশ্রুতির মতো শুনেছিল
ষাটটা বছর ধ’রে ঘরদোর- পিতামাতা- বেঁচেছিল উঁচু-উঁচু গাছের মতন যেন
আজ তবু হঠাৎ বিকেলবেলা- চায়ের টেবিলে সব রাক্ষস-খোক্কস হয়ে গেল কেন-‘

কে যেন গম্ভীর স্বরে ব’লে গেল: এ-সব হেঁয়ালি আর কেন এর কাছে
তবুও আমার দেহ ক্যাঙারুর মতো যেন
বহু দিন থেকে মন- অসম্ভ্রান্ত- নিউরোটিকের মতো হয়ে আছে।

 

এই জ্যোৎস্নারাতে চাঁদ । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷

তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷

 

Leave a Comment