কী বই সে না পড়েছে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৮ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

কী বই সে না পড়েছে
কবিতা: কী বই সে না পড়েছে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

কী বই সে না পড়েছে?- ছোটবেলা ভারতীয় কাব্য থেকে দর্শন-তক
বড়ো হয়ে নেড়েছে সে বিলেতের ঢের ক্যাটেলগ, বুলেটিন
শৈশবের বইগুলো উদরটা রুদ্ধ ক’রে রেখেছিল- তার পর এসেছে মারক
ফেবার ফেবার আর গোলাঞ্জের থেকে- হেসে- দাঁতে দিয়ে তৃণ-
এত বই- রোজই আরও এত বই- কবে-যে প্রথম হল বর্ণপরিচয়
সেই থেকে পিতামাতা মুখ চুন ক’রে আছে- গাঢ় রাতে ফিসফিস ক’রে কথা কয়
দশ টন বই প’ড়ে কেউ পায় এক রতি সার
দশ টন সার কেউ- তবু কেউ পেয়ে যায় এক রতি বিতর্কের থেকে
কিন্তু তবু হয়ে যায় সমাজের সব-চেয়ে শক্ত সংস্কার
ফেবার ফেবার আর ইন্ডিয়া-রাবারের গুণ যদি বাঙালির গ্রন্থে ওঠে জেঁকে
বলিল সে জননীকে- জননীর মনে প’ড়ে গেল এক চার-কোনা অব্যর্থ শ্লেট
বালককে দিয়েছিল;- সেই থেকে ছেলে আর চায় নাই লজেনচুস কিংবা চকোলেট।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷
জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।
মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷