যেই বই পাবে না ক দার্শনিক কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৫ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

যেই বই পাবে না ক দার্শনিক
কবিতা: যেই বই পাবে না ক দার্শনিক
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

যেই বই পাবে না ক’ দার্শনিক কোনও দিন এই পৃথিবীতে
গভীর মনীষা নিয়ে;- অনেক সহিষ্ণু মোম জ্বেলে আমি নিরন্ন নিশীথে
পৃথিবীর গ্রন্থশালা খুঁজে গেছি- উজ্জয়িনী গ্রীস আলেকজান্দ্রিয়ায় গিয়ে
বাঁকা চাঁদ জলপাই-পল্লবের অন্ধকার জলপথ দিয়ে
শার্সিতে হেসে গেছে মৃত এক পরাজিত নারীর মতন
তাহার শবের ছবি ঝ’রে গেছে- স্বাভাবিক- কোনও সংঘটন
আনে নি ক’;- তার পর অকস্মাৎ আজ অই পুবের আকাশে
সূর্য এল- যেন কোনও মহীয়ান সম্রাটের প্রান্তরের ঘাসে
রৌদ্র শুধু- নিস্তব্ধতা- পাশে তার সমুদ্রের নীলাভ ক্রন্দন
কানের পটহে এসে করে না ক’ যেন কোনও ধ্বনি নিঃসরণ
মোমের সকল আলো পুড়ে যেন মোহনীয় আননের বিভা
দেখিতেছে;- সব বই ধ্বংস হয়ে জ্বালায়েছে গোলাপি প্রতিভা
প্রত্যুষের;- ও গো পাখি, স্বর্ণ-পাখি, কোন অবন্তীতে তুমি ছিলে
তোমারে খুঁজেছি আমি কত দিন- আজ অই সমুদ্রের হলুদ সলিলে
মেঘের কমলা রঙে- নতুন আকাশ তুমি বানায়েছ এশিয়ার প্রান্তরের মতো
সীমাহীন- শব্দহীন- কোটি-কোটি নীলগাই, ঘাস আর রৌদ্রে অব্যাহত।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷