নক্ষত্র হারায়ে ফেলে – জীবনানন্দ দাশ ( বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ ,১৯৪২ )

নক্ষত্র হারায়ে ফেলে – বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ করেছিলেন কবি বুদ্ধদেব বসু তার কবিতা পত্রিকায়। জীবনানন্দ -দাশের অন্যতম জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ বনলতা সেন। ১৯৪২ সালে কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এটি জীবনানন্দ -দাশের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। তার আগে ঝরা পালক (১৯২৭) এবং ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬) নামের দুইটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছিল। এই কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ২৯ টি কবিতা স্থান পেয়েছে।

 

নক্ষত্র হারায়ে ফেলে

নক্ষত্র হারায়ে ফেলে - জীবনানন্দ দাশ ( বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থ ,১৯৪২ )

 

কবিতা: নক্ষত্র -হারায়ে ফেলে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম:বনলতা সেন

 

 

নক্ষত্র -হারায়ে ফেলে কোনও দিন যদি তার হৃদয়ের জ্যোতি,
সিন্ধুর সুরের ছন্দ অন্ধকারে কোনও দিন যদি স্তব্ধ হয়,
উচ্ছৃঙ্খল বিশৃঙ্খলা যদি এই পৃথিবীর বুকে লেগে রয়,
প্রাণেরে শাসন করে কোনও দিন যদি মৃত্যু- নিরাশা- নিয়তি,
যদি পথ বুজে যায়,- স্তব্ধ হয়ে থেমে যায় পথিকের গতি,
ক্লান্ত হয়ে ঘুমাবার অবসর খুঁজে ফেরে যদি এ-হৃদয়,-
তা হ’লে প্রেমের সে কি হারায়েছে?- জীবনের সাথে কথা কয়
যেই প্রেম,- যার দু’টি হাত ধ’রে ভুলে যাই পৃথিবীর ক্ষতি;

কোনও দূর আকাশের নক্ষত্রের বুক থেকে পৃথিবীতে তারে
আমরা ডাকিয়া আনি,- সে আসিবে কবে?- তার অপেক্ষায় থেকে
মানুষ জাগিয়া রয়;- মানুষের মতো আর কে জাগিতে পারে
প্রেমের প্রতীক্ষা ক’রে,- হে প্রেম,- তোমারে ডেকে-ডেকে!
আমাদের সব আলো নিভে যায় আমাদের সব দীপাধারে,-
হৃদয়ের অন্ধকারে তারার মতন আলো ল’য়ে জ্বলিবে কে!

 

আরও দেখুন:

মন্তব্য করুন