প্রকৃষ্ট আনন্দ । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

প্রকৃষ্ট আনন্দ কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১৩তম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

 

প্রকৃষ্ট আনন্দ । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

প্রকৃষ্ট আনন্দ

কবিতা: প্রকৃষ্ট আনন্দ
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

 

প্রকৃষ্ট আনন্দ । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

প্রকৃষ্ট আনন্দ আমি পেয়ে গেছি পৃথিবীর এই দ্রুত কেন্দ্রের ভিতরে
আধো-ঘুম নিয়ে হেঁটে- সমুজ্জ্বল কামানের ‘পরে
যখন পড়েছে আলো কোনও এক অভিগামী ধবল মেঘের
অথবা ভিখিরি তার শুষ্ক দেহ নিয়ে হেঁটে মাথার উপরে
যেই চুল জমায়েছে- মনে হত তাহা যেন নীড়
কোনও এক দোয়েলের- তার পর অপ্রাকৃত দোয়েলকে দেখে:

ভোরের আঞ্জির-গাছে নিকটেই এক বোঝা বিবর্ণ পাতার
আধো-শুষ্ক শূন্য লতিকার ভিড়ে ব’সে আছে কালো
কালো সমুজ্জ্বল সাদা ডোরা নিয়ে সহৃদয়তায়
এখুনি সে উড়ে যাবে যেন এক মহড়ানুভবে
ভীষণ কৃমির দিকে- অথবা সূর্যের পানে হেসে-
যেমন নির্দেশ আসে সর্বদাই এই ব্রহ্মাণ্ডের
স্পর্শাতুর সময়ের নবীন-নবীনতর প্রতীতির থেকে।

 

প্রকৃষ্ট আনন্দ । জীবনানন্দ দাশ । পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থ,২০০৫

 

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷ জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।

মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷

 

মন্তব্য করুন