বিমলা বিধবা হল কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৫ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

বিমলা বিধবা হল
কবিতা: বিমলা বিধবা হল
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

সত্তর বছরে বিমলা বিধবা হল
সে-কালে জন্মালে নিষ্পলক চোখে সে সহমরণে যেতে পারত
এমনই নারীত্বের তেজ তার
কিন্তু এ-যুগে বিধবা হয়ে তাকে থান-কাপড় পরতে হয় শুধু
নিরামিষ খেতে হয়- এই সব মাত্র
এমনই ক’রে বর্ষা ও শরৎ কেটে গেল
কার্তিকের বিকেলে এক দিন পঁচাত্তর বছরের মন্মথবাবু এসে বললেন:
মনে পড়ে, বিমলা
আমার বাবা চেয়েছিলেন তোমার সঙ্গে আমার বিয়ে দিতে…
হেমন্তের সারা-রাত- সমস্তটা জ্যোৎস্নার রাত জেগে রইল বৃদ্ধা
থেকে-থেকে কিশোরীর মতো ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল
মৃত স্বামীর জন্য? মন্মথবাবুর সঙ্গে বিয়ে হয় নি ব’লে?
সময়পুরুষ ভ্রুভঙ্গিতে হেসে বললে: থাম তুমি- কী জান তুমি!

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷
জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।
মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷