মৃত্যু যেন স্থির হিম কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৭ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

মৃত্যু যেন স্থির হিম
কবিতা: মৃত্যু যেন স্থির হিম
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

মৃত্যু যেন স্থির হিম চোখে বলিতেছে:
যাহাকে মরণ বলে তার সাথে অন্ধকারে- পরকীয়া প্রেমে
তোমাদের কর্মীরাও প’ড়ে গেছে- তোমাদের মননশীলেরা;
আমি সেই মৃত্যু।
জানি আমি দেবতা সে- তবু পলাতক নয়- ক্রূর নয় তবু
কোনও অনিশ্চিত অন্ধকার ভূমিষ্ঠ বাতাস
সঙ্গে ক’রে নিয়ে আসে রজনীতে
নাবিকেরা মধ্যসমুদ্রের জলে সেই ক্ষোভ ভালোবাসে
(পরকীয়া প্রণয়ের জন্ম হয়- গভীর বাতাস আসে গাঢ় রজনীতে)
খাবার-টেবিল থেকে উঠে গিয়ে চ্যূত হয়ে যায় পৃথিবীর বিষয়ীর মন
তারা প্রেম চায়- হয়তো দেহেরে ভালোবাসে- তবুও মৃত্যুরে সব-শেষ প্রিয় অতিথির মতো
এইখানে পৃথিবীতে ব’সে সফল মুহূর্তে মধ্যনিশীথের
আকাশের দিকে চেয়ে আবার সংজ্ঞা চাই- জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করি
তবু যেন দীর্ঘতম রীতি এক অসংলগ্ন গণিতের মতো ক্রমে
হৃদয়কে ভগ্নজানু ক’রে ফেলে; সঙ্কল্পকে নষ্ট ক’রে দিয়ে যায় পরিষ্কার রজনীর
অনেক অসুস্থ ধূমা দিয়ে ঢেকে।

সেই ক্ষত মুছিবার তরে মৃত্যু
কোনও নক্ষত্র (বিদেশে নয়)- আমাদেরই দুয়ারের পাশে
সমীচীন স্নিগ্ধ সখি- সচিব- নারীর মতন যেন প্রতীক্ষা করিছে
বাহিরের বিমিশ্রিত বায়ু খেয়ে ঢের- কোনও কিছু অন্তরঙ্গ আলোকের তরে
কে কখন নিজ ঘরে ফিরে আসে-
এই শহরের পথ থেকে পথে ঢের রূঢ় আলো
পৃথিবীর সমস্ত সীমানা জুড়ে যেন ঢের ধুম্র জনরব
সমস্ত সময়সত্ত্ব কিনে ফেলে দিন-রাত ঘুরিতেছে
মনে হয় মুমুক্ষাও যেন রূঢ় আলো- ঝটিকার বায়ুর মতন শব্দ
আপনার শবকেও শান্তি দেবে না ক’ (কোনও দিন)
যখন কলম তুলে নিয়ে হৃদয়ের অন্ধকার গহ্বরে তাকায়ে কথা লিখি
আমরাও জ্ঞান ভালোবাসি: মরণের পাদপীঠ কী রকম? এই জ্ঞান-
এই শান্তি- এই নিস্তব্ধতা।