যখন শরৎ আসে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৯ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

যখন শরৎ আসে
কবিতা: যখন শরৎ আসে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

যখন শরৎ আসে রক্তে কোনও বীজ যেন হেমন্তের সন্ধ্যাকে চায়
চায় সেই কুয়াশার ব্যবহার- আমরা দু’ জনে তবু শরতের ভূপৃষ্ঠে দাঁড়ায়ে
স্টেশনের পাশে হেঁটে- মন্থর শান্টিং দেখে এঞ্জিনের-
নীল কুর্তা সারা-দিন কয়লার সমাশ্রয়ে- চক্ষুকর্ণহীন
হয়তো ফেলেছে কেটে নাসিকাও; কারু-কারু তীক্ষ্ণ নাসা আছে ব’লে তৃপ্তি নিসর্গের
বিলোল সে- ভারে কেটে যায়;- নাচিছে শভেল তার
সকালকে পার ক’রে দিয়ে দুপুরের দিকে- দুপুরকে
আকাশরেখার দিকে, পরম আয়ুর দিকে চরম হংসের।
মাঝে-মাঝে জল খেতে আসে দেশে- এ-দেশে চাতক
ঐ বড়ো উঁচু ট্যাঙ্ক- বিপ্রলব্ধা গৃহিণীর মতো
তামাটে হাওয়ার ঢেউয়ে- দুপুরের রৌদ্রে- একা-
ঘড়ি-ধরা টাইমটেবলের দিকে ফিরে সুন্দর, সময়গ্রীব।
এখানে এঞ্জিন তাই বেগে আসে
পৃথিবীর মুখ্য গণনায় গৌণ হয়ে যায়- এক কোয়ার্টার
ফানেলের মুখে স্নিগ্ধ অবসর নিয়ে তার পর
সুশৃঙ্খল জীবনের সূত্রে জড়ায়।- চাতক তবুও মেঘ-ছাড়া
কিছু চায় না ক’- কুর্তার নীল ছাড়পত্র এক বার খুলে ফেলে
কয়লার চেয়ে কালো অদ্ভুত তিমিরে
আমরাও চাই না ক’ কিছু আর- জীবনের মানে ছাড়া
মাছিমারা কলমের বুকে যখন অম্বল জমে- দাম মাঝপথে ঢ’লে গেলে।

জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশ) অন্তর্গত বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন৷ তার পূর্বপুরুষগণ বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর(বর্তমান মুন্সীগঞ্জ) পরগণার কুমারভোগ নামক স্থানে “গাওপারা” গ্রামের নিবাসী ছিলেন যা পদ্মায় বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে৷ স্থানটি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় অবস্থিত৷
তার পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৩৮-৮৫) বিক্রমপুর থেকে বরিশালে স্থানান্তরিত হন৷সর্বানন্দ দাশগুপ্ত জন্মসূত্রে হিন্দু ছিলেন; পরে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষা নেন৷ তিনি বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন এবং তার মানবহিতৈষী কাজের জন্যে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হন৷