যখন খেতের ধান ঝরে গেছে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৩য় খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-র সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

যখন খেতের ধান ঝরে গেছে
কবিতা: যখন খেতের ধান ঝরে গেছে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

যখন খেতের ধান ঝ’রে গেছে- খেতে-খেতে প’ড়ে আছে খড়
আম বাঁশ ডুমুরের পাতাগুলো মাঠে-মাঠে করে মর্মর
ফাল্গুনমাসের ঘ্রাণে ফড়িং এ-জীবনের গন্ধ ভালোবাসে
বিশুষ্ক পুঁইয়ের মাচা ঘিরে-ঘিরে প্রজাপতিগুলো উড়ে আসে
হলুদ-জর্দা-সাদা প্রজাপতি- হলুদ-জর্দা-নীল-লাল
দুপুরের মাঠে শুয়ে এই পল্লী- নিস্তব্ধতা- এই খোড়ো চাল
ভূতুরে স্বপ্নের মতো ডালপালা- নীরব নরম দাঁড়কাক
তেরছা ডানার ছায়া; চিল বুঝি?- নলবনে শালিখের ঝাঁক

এই সব ভালো লাগে- দু’ দিনেই চুল শুধু হয়ে যাবে সাদা
এইখানে মাঠে শুয়ে ভালোবাসিবার পথে আরও ঢের বাধা
জ’মে যাবে; এখুনি তো ফাল্গুনের মায়াময় অপরাহ্ন ভরি
পরীর যুগের মতো কারা যেন সোনার পাখির পিঠে চড়ি
কুয়াশায় মুছে যায়… মুছে গেছে;- কোনও দিন ফিরিবে না আর
যদিও ফাল্লুন আছে- আমি আছি- প্রজাপতি আছে নীল লাল পাখনার।