তুমি কবিতা – বনলতা সেন কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ করেছিলেন কবি বুদ্ধদেব বসু তার কবিতা পত্রিকায়। জীবনানন্দ -দাশের অন্যতম জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ বনলতা সেন। ১৯৪২ সালে কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এটি জীবনানন্দ -দাশের তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। তার আগে ঝরা পালক (১৯২৭) এবং ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬) নামের দুইটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছিল। এই কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ২৯ টি কবিতা স্থান পেয়েছে।
তুমি কবিতা

কবিতা:তুমি কবিতা
কবির নাম: জীবনানন্দ- দাশ
কবি: জীবনানন্দ -দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম:বনলতা সেন

কী অপরূপ তোমার চোখের দৃষ্টি
তুমি বিধাতার মনের প্রথম সৃষ্টি
তোমার হাসিতে যে চন্দ্র জ্যোৎস্না ছড়ায়
তোমার রূপেতে যে বসন্ত ফুল ফোঁটায়
ঐ হাতের কঙ্কন যেন রিনিঝিনি শব্দ বাজায়
রূপের ঝলকে যেন বিজলি চমকায়
যেমন তোমার মাথার ঘন কালো চুল
তোমার সৌন্দর্যের তুলনা করলে হবে না’কো ভুল
তুমি জীবনানন্দ দাশের নাটরের বনলতা সেন
তুমিই আমার জীবনের প্রথম দেখা, প্রথম প্রেম
তোমার নূপুরের রুনু-ঝুনু তে মন ভরে যায়
তোমার সৌন্দর্য যে মনের মধ্যে রংধনু সাজায়
শিউলির সুগন্ধ ,বকুলের মালা , রক্ত জবার লাল
তুমি সর্ব কালের শিব শক্তির কালের ও মহাকাল
তুমি অনন্যা, রূপের রাজকন্যা, মহা সমুদ্রের তরঙ্গের ধ্বনি
নিস্তব্ধ, একাকি ,রাতের নিদ্রাতে শুনি তব পদধ্বনি
তুমি রথের মেলা , বেহুলার ভেলা , তুমি সুন্দরী পরী
প্রেমী আমি , মোহিত আমি , তোমায় অজানা পথের সন্ধানে খুঁজে মরি
বিজয়ের জয় চির অক্ষয় অবিনশ্বর তুমি, তোমার রূপের বর্ণনা করিতে পারিনি এখনো বর্ণন
যতো দেখি তোমাকে মুগ্ধ হই ততো আমি।
