শৃঙ্খলমুক্ত কবিতা | অক্ষয়কুমার বড়াল

আজকে আমরা আলোচনা করবো শৃঙ্খলমুক্ত কবিতা নিয়ে। কবিতা টি লিখেছেন অক্ষয়কুমার-বড়াল।

অক্ষয়কুমার বড়াল-

অক্ষয়কুমার-বড়াল ১৮৬০ সালে বর্তমান ভারতের কলকাতার চোরবাগানে এক স্বর্ণব্যবসায়ীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম কালীচরণ বড়াল৷ তাঁদের আদিবাস হুগলী জেলার চন্দননগর ৷ তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় কলকাতার হেয়ার স্কুলে। কিন্তু পড়াশোনায় তিনি উন্নতি করতে পারেননি।

 

শৃঙ্খলমুক্ত কবিতা | অক্ষয়কুমার বড়াল

 

শৃঙ্খলমুক্ত কবিতা | অক্ষয়কুমার বড়াল

 

শৃঙ্খলমুক্ত কবিতা | অক্ষয়কুমার বড়াল

 

আর কেন বাঁধি তারে–শিকল দিলাম খুলি ;
কত বর্ষ অনভ্যাসে উড়িতে গিয়াছে ভুলি’।
ঝাপটি’ পড়িল ভূমে, ভয়ে কাঁপে পাখা দুটি ;
পুত্র কন্যা দেয় তাড়া– করে ঘরে ছুটাছুটি |

ল’য়ে গেনু গৃহ-শিরে অতি সন্তর্পণে ধরি,’
সর্বাঙ্গে বুলানু কর কত-না আদর করি’
ক্ৰমে সুস্থ, তুলি গ্রীবা চাহিল আকাশ-পানে–
মুখরিত উপবন কূজনে গুঞ্জনে গানে।

স্ফুরিল কাকলি মুখে, সহসা উড়িল টিয়া–
উড়িছে– হরিত্-পক্ষে স্বর্ণ-রৌদ্র আলোড়িয়া।
কি আলোক-পরিপূর্ণ! কি বায়ু– পাগল-করা!
প্রকৃতি মায়ের মত হাস্যমুখী মনোহরা !

ধায় ছাড়ি গ্রাম, নদী ; দূর মাঠে যায় দেখা,–
দিগন্তে অরণ্য-শীর্ষ—শ্যামল বঙ্কিম রেখা ।
ল’য়ে শত শূণ্য নীড় ডাকে ধরা অবিরত–
নীল স্থির নভস্থলে ভাসে ক্ষুদ্র মরকত |

চকিতে সরিল মেঘ– কোথা কিছু নাহি আর!
চকিতে ভাতিল মেঘে অমরার সিংহদ্বার!
ঝটিতি মিশিল বায়ে মিলনের কলধ্বনি—
ত্রিদিব পেয়েছে ফিরে যেন তার হারামণি!

এই মৃত্যু— এই মুক্তি! হে দেব, হে বিশ্বস্বামী !
আমিও ত বদ্ধজীব, আমিও ত মুক্তিকামী!
আমিও কি ফেলি’ দেহ–বিস্ময়ে আতঙ্ক-হীন—
অসীম সৌন্দর্যে তব হইব আনন্দে লীন ?

 

শৃঙ্খলমুক্ত কবিতা | অক্ষয়কুমার বড়াল

মন্তব্য করুন