পত্রপুট কাব্যগ্রন্থের ‘পৃথিবী’ কবিতা — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পত্রপুট’ (১৯৩৬) কাব্যগ্রন্থের অন্যতম শ্রেষ্ঠ, গভীর দার্শনিক ও মানবতাবাদী সৃষ্টি হলো ‘পৃথিবী’ কবিতাটি। শান্তিনিকেতনে ১৬ অক্টোবর ১৯৩৫ সালে রচিত এই কবিতায় কবি পৃথিবীর দ্বিবিধ রূপ—তার স্নেহময়ী মাতৃত্ব এবং তার নিষ্ঠুর, নির্মম ও ধ্বংসাত্মক প্রকৃতিকে অপূর্ব এক মহাজাগতিক ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন।

কবিতার মূল তথ্য
বিষয় বিবরণ
কবিতার নাম পৃথিবী
কবির নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মূল কাব্যগ্রন্থ পত্রপুট
রচনার তারিখ ১৬ অক্টোবর, ১৯৩৫
প্রকাশের বছর ১৯৩৬ (১৩৪৩ বঙ্গাব্দ)
কবিতার ধরন দার্শনিক, মননশীল ও বিশ্বপ্রকৃতিভিত্তিক গীতি-কবিতা (Philosophical and Nature-based Lyrical Poem)

 

কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট

১৯৩৬ সালে প্রকাশিত ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের পরিণত বয়সের মুক্তছন্দে রচিত গদ্যকবিতার এক অনন্য সংগ্রহ। জীবনের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে কবি পৃথিবীকে কেবল সুন্দর বা স্নিগ্ধ হিসেবে দেখেননি; তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন প্রকৃতির আদিম হিংস্রতা, দানবীয় শক্তি এবং সৃষ্টির অন্তরালে লুকিয়ে থাকা মহাপ্রলয়ের রূপকে। একই সাথে এই ধূলির ধরণীর কাছে মানুষের চিরন্তন আত্মসমর্পণ এবং জীবনের সমস্ত সুখ-দুঃখ ও সংগ্রামের শেষ পরিণতির এক অপূর্ব দার্শনিক উপলব্ধি এই কবিতায় মূর্ত হয়েছে।

পৃথিবী – সম্পূর্ণ কবিতা

আজ আমার প্রণতি গ্রহণ করো, পৃথিবী,
শেষ নমস্কারে অবনত দিনাবসানের বেদীতলে।

মহাবীর্যবতী, তুমি বীরভোগ্যা,
বিপরীত তুমি ললিতে কঠোরে,
মিশ্রিত তোমার প্রকৃতি পুরুষে নারীতে;
মানুষের জীবন দোলায়িত করো তুমি দুঃসহ দ্বন্দে।
ডান হাতে পূর্ণ করো সুধা
বাম হাতে চূর্ণ করো পাত্র,
তোমার লীলাক্ষেত্র মুখরিত করো অট্টবিদ্রূপে;
দুঃসাধ্য করো বীরের জীবনকে, মহৎজীবনে যার অধিকার।
শ্রেয়কে করো দুর্মূল্য,
কৃপা করো না কৃপাপাত্রকে।
তোমার গাছে গাছে প্রচ্ছন্ন রেখেছ প্রতিমুহূর্তের সংগ্রাম,
ফলে শস্যে তার জয়মাল্য হয় সার্থক।
জলে স্থলে তোমার ক্ষমাহীন রণরঙ্গভূমি,
সেখানে মৃত্যুর মুখে ঘোষিত হয় বিজয়ী প্রাণের জয়বার্তা।
তোমার নির্দয়তার ভিত্তিতে উঠেছে সভ্যতার জয়তোরণ,
ত্রুটি ঘটলে তার পূর্ণ মূল্য শোধ হয় বিনাশে।
তোমার ইতিহাসের আদিপর্বে দানবের প্রতাপ ছিল দুর্জয়,
সে পরুষ, সে বর্বর, সে মূঢ়।

তার অঙ্গুলি ছিল স্থূল, কলাকৌশলবর্জিত;
গদা-হাতে মুষল-হাতে লণ্ডভণ্ড করেছে সে সমুদ্র পর্বত;
অগ্নিতে বাষ্পেতে দুঃস্বপ্ন ঘুলিয়ে তুলেছে আকাশে।
জড় রাজত্বে সে ছিল একাধিপতি,
প্রাণের পরে ছিল তার অন্ধ ঈর্ষা।

দেবতা এলেন পর-যুগে
মন্ত্র পড়লেন দানব-দমনের,
জড়ের ঔদ্ধত্য হোলো অভিভূত;
জীবধাত্রী বসলেন শ্যামল আস্তরণ পেতে।
উষা দাঁড়ালেন পূর্বাচলের শিখরচূড়ায়,
পশ্চিম সাগরতীরে সন্ধ্যা নামলেন মাথায় নিয়ে শান্তিঘট।
নম্র হোলো শিকলে-বাঁধা দানব,
তবু সেই আদিম বর্বর আঁকড়ে রইল তোমার ইতিহাস।
ব্যবস্থার মধ্যে সে হঠাৎ আনে বিশৃঙ্খলতা,
তোমার স্বভাবের কালো গর্ত থেকে
হঠাৎ বেরিয়ে আসে এঁকেবেঁকে।
তোমার নাড়ীতে লেগে আছে তার পাগলামি।
দেবতার মন্ত্র উঠছে আকাশে বাতাসে অরণ্যে
দিনেরাত্রে
উদাত্ত অনুদাত্ত মন্দ্রস্বরে।
তবু তোমার বক্ষের পাতাল থেকে আধপোষা নাগ-দানব
ক্ষণে ক্ষণে উঠছে ফণা তুলে’,
তার তাড়নায় তোমার আপন জীবকে করছ আঘাত,
ছারখার করছ আপন সৃষ্টিকে।

শুভে অশুভে স্থাপিত তোমার পাদপীঠে,
তোমার প্রচণ্ড সুন্দর মহিমার উদ্দেশে
আজ রেখে যাব আমার ক্ষতচিহ্নলাঞ্ছিত জীবনের প্রণতি।
বিরাট প্রাণের, বিরাটমৃত্যুর গুপ্তসঞ্চার
তোমার যে-মাটির তলায়
তাকে আজ স্পর্শ করি, উপলব্ধি করি সর্ব দেহে মনে।
অগণিত যুগযুগান্তরের
অসংখ্য মানুষের লুপ্তদেহ পুঞ্জিত তার ধুলায়।
আমিও রেখে যাব কয় মুষ্টি ধূলি
আমার সমস্ত সুখদুঃখের শেষ পরিণাম,
রেখে যাব এই নামগ্রাসী, আকারগ্রাসী সকল পরিচয়গ্রাসী
নিঃশব্দ মহাধূলিরাশির মধ্যে।
অচল অবরোধে আবদ্ধ পৃথিবী, মেঘলোকে উধাও পৃথিবী,
গিরিশৃঙ্গমালার মহৎ মৌনে ধ্যানমগ্না পৃথিবী,
নীলাম্বুরাশির অতন্দ্রতরঙ্গে কলমন্দ্রমুখরা পৃথিবী,
অন্নপূর্ণা তুমি সুন্দরী, অন্নরিক্তা তুমি ভীষণা।
একদিকে আপক্কধান্যভারনম্র তোমার শস্যক্ষেত্র,
সেখানে প্রসন্ন প্রভাতসূর্য প্রতিদিন মুছে নেয় শিশিরবিন্দু
কিরণ-উত্তরীয় বুলিয়ে দিয়ে।
অস্তগামী সূর্য শ্যামলশস্যহিল্লোলে রেখে যায় অকথিত এই বাণী—
“আমি আনন্দিত।”
অন্যদিকে তোমার জলহীন ফলহীন আতঙ্কপাণ্ডুর মরুক্ষেত্রে
পরিকীর্ণ পশুকঙ্কালের মধ্যে মরীচিকার প্রেতনৃত্য।
বৈশাখে দেখেছি বিদ্যুৎচঞ্চুবিদ্ধ দিগন্তকে ছিনিয়ে নিতে এল
কালো শ্যেন পাখির মতো তোমার ঝড়,
সমস্ত আকাশটা ডেকে উঠল যেন কেশর-ফোলা সিংহ,

তার ল্যাজের ঝাপটে ডালপালা আলুথালু ক’রে
হতাশ বনস্পতি ধুলায় পড়ল উবুড় হয়ে।
হাওয়ার মুখে ছুটল ভাঙা কুঁড়ের চাল
শিকলছেঁড়া কয়েদী-ডাকাতের মতো।
আবার ফাল্গুনে দেখেছি তোমার আতপ্ত দক্ষিণে হাওয়া
ছড়িয়ে দিয়েছে বিরহ মিলনের স্বগতপ্রলাপ
আম্রমুকুলের গন্ধে।
চাঁদের পেয়ালা ছাপিয়ে দিয়ে উপচিয়ে পড়েছে
স্বর্গীয় মদের ফেনা।
বনের মর্মরধ্বনি ঝঞ্ঝাবায়ুর স্পর্ধায় ধৈর্য হারিয়েছে
অকস্মাৎ কলোচ্ছ্বাসে॥
স্নিগ্ধ তুমি, হিংস্র তুমি, পুরাতনী, তুমি নিত্যনবীনা,
অনাদি সৃষ্টির যজ্ঞ হুতাগ্নি থেকে বেরিয়ে এসেছিলে
সংখ্যাগণনার অতীত প্রত্যূষে,
তোমার চক্রতীর্থের পথে পথে ছড়িয়ে এসেছ
শত শত ভাঙা ইতিহাসের অর্থলুপ্ত অবশেষ—
বিনাবেদনায় বিছিয়ে এসেছ তোমার বর্জিত সৃষ্টি
অগণ্য বিস্মৃতির স্তরে স্তরে।
জীবপালিনী, আমাদের পুষেছ
তোমার খণ্ডকালের ছোটো ছোটো পিঞ্জরে।
তারই মধ্যে সব খেলার সীমা
সব কীর্তির অবসান।
আজ আমি কোনো মোহ নিয়ে আসিনি তোমার সম্মুখে,
এতদিন যে দিনরাত্রির মালা গেঁথেছি বসে বসে
তার জন্যে অমরতার দাবি করব না তোমার দ্বারে।

তোমার অযুত নিযুত বৎসর সূর্য-প্রদক্ষিণের পথে
যে বিপুল নিমেষগুলি উন্মীলিত নিমীলিত হোতে থাকে
তারই এক ক্ষুদ্র অংশে কোনো একটি আসনের
সত্যমূল্য যদি দিয়ে থাকি,
জীবনের কোনো একটি ফলবান খণ্ডকে
যদি জয় ক’রে থাকি পরম দুঃখে
তবে দিয়ো তোমার মাটির ফোঁটার একটি তিলক আমার কপালে;
সে চিহ্ন যাবে মিলিয়ে
যে-রাত্রে সকল চিহ্ন পরম অচিনের মধ্যে যায় মিশে॥

হে উদাসীন পৃথিবী,
আমাকে সম্পূর্ণ ভোলবার আগে
তোমার নির্মল পদপ্রান্তে
আজ রেখে যাই আমার প্রণতি॥

শান্তিনিকেতন ১৬ অক্টোবর, ১৯৩৫

Romanized Version
Aj amar pronoti grohon koro, prithibi,
Shesh nomorshare obonoto dinabosaner beditole.
Mohabirjoboti, tumi birbhogya,
Biporit tumi lolite kothore,
Mishrito tomar prokriti purushe narite;
Manusher jibon dolayito koro tumi dushshoho donde.
Dan hate purno koro shudha
Bam hate churno koro patro,
Tomar lilakhetro mukhorito koro ottobidrupe;
Dushshadho koro birer jibonke, mohotjibone jar odhikar.
Shreyke koro durmulyo,
Kripa koro na kripapatre.
Tomar gashe gashe prochchhonno rekhechho protimuhurter shongram,
Fole shoshye tar joymalyo hoy sharthoko.
Jole sthole tomar khomahin ronorongobhumi,
Shekhane mrityur mukhe ghoshito hoy joyi praner joybarta.
Tomar nirdayotar bhittite uthechhe shobhotar joytoron,
Truti ghotle tar purno mullo shodh hoy binashe.
Tomar itihaser adiporbe danober protap chhilo durjoy,
She porush, she borbor, she murho;
Tar anguli chhilo sthul, kolakousholborjito;
Goda-hate mushol-hate londovhondo korechhe she shomudro porboto;
Agnite bashpete dushshopno ghuliye tulechhe akashe.
Jor rajotte she chilo ekadhipoti,
Praner pore chilo taro ondho irsha.
Debota elen por-yughe
Montro porlen danob-domoner,
Jorer oudhdhotyo holo ovibhut;
Jibdhatri boshlen shomol astoron pete.
Usha daralen purbachelor shikhortchuray,
Poshchim shagortire shondha namlen mathay niye shantighot.
Nomro holo shikle-bandha danob,
Tobu shei adim borbor akre roilo tomar itihash.
Byaboshar modhye she hothat ane bishrinkholata,
Tomar shobhaber kalo gorto theke
Hothat beriye ashe enke-benke.
Tomar narite lege ache tar paglami.
Debotar montro utchhe akashe batashe oronye
Dineratre
Udatt onudatt mondroshore.
Tobu tomar bokker patal theke adhposha nag-danob
Kshone kshone utchhe fona tule’,
Tar taranay tomar apon jibke korchho aghat,
Chharkhar korchho apon srishtike.
Shubhe oshubhe sthapito tomar padapithe,
Tomar prochondosundor mohimar uddeshe
Aj rekhe jabe amar khotichinhulanchhito jiber pronoti.
Biraat praner, biraatmrityur guptoshonchar
Tomar je-matir tolay
Take aj sporshi, upolobdhi kori shorbhode mone.
Ogonito yugyugantorer
Oshongkho manusher lupto-deho punjito tar dhulay.
Ami-o rekhe jabo koy mushti dhuli
Amar shomosto shukhdukher shesh porinam,
Rekhe jabo ei namgrashi, akargrashi shokol porichaygrashi
Nishobdo mohadhulirashir modhye.
Ochol oborodhe aboddho prithibi, meghloke udhao prithibi,
Girishringamalar mohot moune dhyanmogna prithibi,
Nilamburashir atondrotaronge kolomondromukhora prithibi,
Onnopurna tumi shundori, onnorikota tumi bhishona.
Ekdike apokkodhanyabhar-nomro tomar shoshsyakhetro,
Shekhane proshonno provatsurjo protidin muchhe ney shishirbindu
Kiron-uttorio buliye diye.
Ostogami shurjo shomolshoshsyahillole rekhe jay okothito ei bani—
“Ami anondito.”
Ondike tomar jolhin folhin atonkpanduru morukhetro
Porikirno poshukonkaler modhye morichikar pretonritto.
Bishakhe dekhechhe biddutchonchubiddho digontke chhiniye nite el
Kalo shyen pakhir moto tomar jhor,
Shomosto akashta deke uthlo jeno keshor-fola shingho,
Tar lajer jhapote dalpala aluthalu k’re
Hotash bonoshpati dhulay porlo ubur hoye.
Haoar mukhe chhuto bhanga kure-r chal
Shikolchhera koyedi-dakat-er moto.
Abar falgune dekhechhe tomar atapto dokhine hawa
Chhoriye diyeche biroho miloner shogotoprolap
Amromukuler gondhe.
Chander peyala shapiye diye upchiye porechhe
Shorgiyo moder fena.
Boner morbordhoni jhonjhabayur sporthay dhorjo harechhe
Okkoshmat kolochchbase॥
Snigdho tumi, hingro tumi, puratani, tumi nityonobina,
Onadi srishtir joggo hutagni theke beriye eshile
Shonghyagononer otit protushe,
Tomar chokrotirthar pothe pothe chhoriye eshechhe
Shot shot bhanga itihaser ortholupto oboshesh—
Binabedonay bichhiye eshechhe tomar borjito srishti
Ogonnyo bismritir store store.
Jibpalini, amader pushechho
Tomar khondokaler chhoto chhoto pinjore.
Tar-i modhye shob khelan shima
Shob kirtir obosan.
Aj ami kono moh niye asini tomar shomukhe,
Etodin je dinratrir mala genechhi boshe boshe
Tar jonne omortar dabi korbo na tomar dware.
Tomar oyut niyut bochhor shurjo-prodokshiner pothe
Je bipul nimesh-guli unmilo nirmilo hote thake
Tar-i ek chhuto ongshه kono ekti asoner
Sottyomullo jodi diye thaki,
Jiber kono ekti folban khondoke
Jodi joy k’re thaki porom dushshohe
Tobu diyo tomar matir fotar ekti tilok amar kopale;
Se chinho jabe miliye
Je-ratre shokol chinho porom ochiner modhye jay mishe॥
He udashin prithibi,
Amake shompurno bholbar age
Tomar nirmol podprante
Aj rekhe jai amar pronoti॥

কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ

  • দ্বৈত সত্তার মহাবীর্যবতী পৃথিবী:
    “মহাবীর্যবতী, তুমি বীরভোগ্যা, / বিপরীত তুমি ললিতে কঠোরে, / মিশ্রিত তোমার প্রকৃতি পুরুষে নারীতে;”
    — পৃথিবী কেবল স্নিগ্ধ ও কোমল নয়; সে একই সাথে কঠোর ও বীরভোগ্যা। তার এক হাতে সুধার পেয়ালা এবং অন্য হাতে ধ্বংসের পাত্র। সৃষ্টি ও ধ্বংসের এই চিরন্তন দ্বান্দ্বিক রূপই প্রকৃতির আসল সত্য।
  • সভ্যতার ইতিহাসে দানব ও দেবতার দ্বন্দ্ব:
    “তোমার ইতিহাসের আদিপর্বে দানবের প্রতাপ ছিল দুর্জয়, / সে পরুষ, সে বর্বর, সে মূঢ়… তবুও তোমার বক্ষের পাতাল থেকে আধপোষা নাগ-দানব / ক্ষণে ক্ষণে উঠছে ফণা তুলে’”
    — মানবসভ্যতার পেছনে রয়েছে আদিম বর্বরতা ও দানবীয় শক্তির ইতিহাস। দেবতা যতই শৃঙ্খলিত করুন না কেন, মানুষের ভেতরের সেই আদিম হিংস্রতা ও পাগলামি ক্ষণে ক্ষণে ফণা তুলে ওঠে এবং নিজের সৃষ্টিকেই ধ্বংস করে।
  • নশ্বরতা ও মহাধূলির মাঝে বিলীন:
    “আমিও রেখে যাব কয় মুষ্টি ধূলি / আমার সমস্ত সুখদুঃখের শেষ পরিণাম, / রেখে যাব এই নামগ্রাসী, আকারগ্রাসী সকল পরিচয়গ্রাসী / নিঃশব্দ মহাধূলিরাশির মধ্যে।”
    — মানুষের সমস্ত অহংকার, যশ, কীর্তি এবং সুখ-দুঃখের চূড়ান্ত পরিণতি এই পৃথিবীর মহাধূলির মাঝেই। সমস্ত ব্যক্তিগত পরিচয় ও আকার একদিন নিস্তব্ধ ধূলিরাশির মধ্যে হারিয়ে যায়।
  • উদাসীন পৃথিবীর চরণে শেষ প্রণতি:
    “হে উদাসীন পৃথিবী, / আমাকে সম্পূর্ণ ভোলবার আগে / তোমার নির্মল পদপ্রান্তে / আজ রেখে যাই আমার প্রণতি।”
    — জীবনের দীর্ঘ পথচলায় মানুষ যা অর্জন করে, তার সত্যমূল্যটুকু রেখেই সে একদিন পৃথিবীর কাছে চিরবিদায় নেয়। সমস্ত আনন্দ-বেদনার সাক্ষী এই উদাসীন পৃথিবীর পদপ্রান্তে নিজের সমস্ত অহংকার বিসর্জন দিয়ে কবি শেষ প্রণতি নিবেদন করেছেন।
উৎস
কবিতাটির প্রামাণ্য পাঠ বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ (পত্রপুট কাব্যগ্রন্থ) এবং প্রামাণ্য ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী আপনার নির্দিষ্ট বিন্যাসে সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

মন্তব্য করুন