আমার জানালার পাশে কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ২য় খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-র সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

আমার জানালার পাশে
কবিতা: আমার জানালার পাশে
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

আমার জানালার পাশে
নীল আকাশের চোখের নিচে
একটা পুরোনো উঁচু গাছের রোমশ ডালপালার ভিতর
ছিল শালিখের নীড়;
রোজ ভোরের ঘুম তারা ভেঙে দিত আমার
আকাশের আলো তাদের হৃদয়ের থেকেই যেন জন্মাত
জন্মেছিল সে-দিনকার সেই সবুজ ঘাস সব
সেই সব কমলা-রঙের রৌদ্রের ফেনা
দিগন্তের নীল হাতির-দাঁতের মতো ধূসর মেঘ সব
সারা-দিন আকাশে বাতাসে জঙ্গলে প্রান্তরে
চড়িভাতির আনন্দে
এক-একটা দিনকে জীবনের মতো আয়ত ক’রে তুলত তারা
মনে হত আনন্দের দৈর্ঘ্য দিয়ে
তারাই যেন মস্ত বড়ো আকাশকে নীল অনন্ত ক’রে রেখেছে
যেন আলো বাতাসের (এই) আশার সন্ধির সময়
সময়ের ঘড়ি তাদের হাতে হারিয়ে গেছে।

বিকেলের পড়ন্ত রোদ
তাদের কাছে ডেকে আনত
সন্ধ্যার মেরুন মেঘের আলোয়
তাদের কতদিন দেখেছি আমি
ছোট-ছোট হলুদ পা
শিরীষের জানালার ভিতর দিয়ে
মায়াবীর দেশের ভিতর হারিয়ে গেল।
তার পর ছেড়ে দিতাম তাদের নক্ষত্রের হাতে
ডালপালার বাতাসের ভিতর রাত
পৃথিবীকে পাখির ঘুমের মতো শান্তি দিত।
অন্ধকারে আধোমুখী নারীর মতো সিঁড়ি বেয়ে-বেয়ে
আর-এক পৃথিবীতে এসে পড়েছি আজ
সিঁড়ি বেয়ে-বেয়ে আরও-এক নতুন পৃথিবীতে হারিয়ে যাব।