ভাঁড়ের মৃত্যু ১৯৩৬ কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৮ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

ভাঁড়ের মৃত্যু ১৯৩৬
কবিতা: ভাঁড়ের মৃত্যু ১৯৩৬
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

পৃথিবীতে বহু দিন বেঁচে থেকে- অবশেষে- তুমিও-যে আততায়ী হবে!
কাজ সাঙ্গ হলে তাই নির্জন দস্তানা প’রে গাধা’র টুপিটা
প্রারম্ভেই এঁটে নাও- ফুঁ দিয়ে মোমের বাতি নিভাও নীরবে
জলের গেলাসে আর তখন যাবে না দেখা মুখ
চারি-দিকে শীত-বায়ু- শুষ্ক মনাক্কা’র মতো মদির চিবুক
পিঙ্গলা সুষুম্না যেন- মনে হয়- সুপক্ক গমের মতো মিঠা
অন্ধকারে ঝরিতেছে।- স্পষ্ট অহঙ্কার আর মতভেদ নিয়ে তুমি তবে
চার্বাকের তুণ্ড ভেঙে চ’লে যাও
যদিও মৃত্তিকা কৃমি স্বরাট শবকে তুলে ল’বে।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷
জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।
মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷