রমণী ও নীলিমার মুখের প্রতিভা কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১৩তম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

রমণী ও নীলিমার মুখের প্রতিভা
কবিতা: রমণী ও নীলিমার মুখের প্রতিভা
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

রমণী ও নীলিমার মুখের প্রতিভা-পাশে যদিও সফেন
লিবিডো রয়েছে জেগে- পৃথিবীতে অন্ধ ব্যর্থতায়
যদিও অস্পষ্ট রক্ত যখন সুদূরে চোখ যায়; ব্রহ্মার সময়
যদিও মোহিনী যত- ভাষা তত মহানুভব নয়-
সকলে মিলিত হয়ে মানুষের বিমোহিত হৃদয়কে তবু
আলোড়িত ক’রে তোলে যতই সে বিচলিত হয়ে
মানবের দিকে যায় এক-দৃষ্টে- তবুও তো। অন্য কোনও গতিপথ নয়।
অন্ধকারে প্রতিশ্রুতি সঙ্গে ক’রে সীমারেখা-গোয়েন্দার মতো
অপরিমেয়র মতো- সম্পূর্ণ দীপ্তির মতো নয়।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷ জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।
মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷