রুপালি বৃষ্টির গান কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ৮ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

রুপালি বৃষ্টির গান
কবিতা: রুপালি বৃষ্টির গান
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

রুপালি বৃষ্টির গান শোনা যায়
নতুন বায়ুর বীজ আসে
তবু যারা ক্ষুব্ধ উপেক্ষিত হয়ে চ’লে গেছে
ভাঙা হাঁড়ি চির-হিম উনুনের পাশে
তাহারা নবীন সব শ্রাবস্তী শৈবালী দিয়ে কী করিবে আর
আমরা চীনার মৃত্যু দেখেছি বিকেলবেলা
অনেক নিগ্রোর মৃত্যু- যখন বাতাস অন্ধকার
পরিনির্বাণের মতো সব- শান্ত, সারাৎসার
তার পর পাথরের উপরেখা থেকে তৃণ
ঘুরে গেছে নৈঃশব্দ্যের দিকে
মাঘের রাত্রির শেষে বৃষ্টি-ফোঁটা হারিয়ে ফেলেছে তার প্রাথমিক গতি
আসিছে নতুন দিন, শৈবালীর বায়ু, আহা
তবু যারা চ’লে গেছে অনেক মাটির নীচে তাদের বিরতি।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷
জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।
মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷