শকুন কবিতা – কবিতাটি বাঙালি বিখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাশ এর ” ধূসর পাণ্ডুলিপি ” ধূসর পাণ্ডুলিপি। এই কাব্যগ্রন্থটি জীবনানন্দ- দাশের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়। কবি এই বইটি কবি বুদ্ধদেব বসুকে উৎসর্গ করেন। যে কাব্যগ্রন্থ গুলো দিয়ে বাংলা আধুনিক কবিতার যাত্রা শুরু তার মধ্যে ধূসর পান্ডুলিপি অন্যতম বলে অনেকে মনে করেন। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরা পালকের কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম, মোহিতলাল মজুমদার ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের প্রভাব ছিলো লক্ষ্যণীয়।
শকুন কবিতা

কবিতা:শকুন- কবিতা
কবির নাম: জীবনানন্দ -দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: ধূসর পাণ্ডুলিপি

মাঠ থেকে মাঠে মাঠে — সমস্ত দুপুর ভরে এশিয়ার আকাশে আকাশে
শকুনেরা চড়িতেছে;
মানুষ দেখেছে হাট ঘাঁটি বস্তি — নিস্তব্ধ প্রান্তর
শকুনের; যেখানে মাঠের দৃঢ় নীরবতা দাঁড়ায়েছে আকাশের পাশে
আরেক আকাশ যেন — সেইখানে শকুনেরা একবার নামে পরস্পর
কঠিন মেঘের থেকে — যেন দূর আলো ছেড়ে ধুম্র ক্লান্ত দিক্হস্তিগণ
পড়ে গেছে — পড়ে গেছে পৃথিবীতে এশিয়ার ক্ষেত মাঠ প্রান্তরের ‘পর
এই সব ত্যক্ত পাখি কয়েক মুহুর্তে শুধু — আবার করিছে আরোহণ
আঁধার বিশাল ডানা পাম্ গাছে — পাহাড়র শিঙে শিঙে সমুদ্রের পারে;
একবার পৃথিবীর শোভা দেখে — বোম্বায়ের সাগরের জাহাজ কখন
বন্দরের অন্ধকারে ভিড় করে, দেখে তাই — একবার স্নিগ্ধ মালাবারে
উড়ে যায় — কোন্ এক মিনারের বিমর্ষ কিনার ঘিরে অনেক শকুন
পৃথিবীর পাখিদের ভুলে গিয়ে চলে যায় যেন কোন্ মৃত্যুর ওপারে;
যেন কোন্ বৈতরণী অথবা এ জীবনের বিচ্ছেদের বিষন্ন লেগুন
কেঁদে ওঠে… চেয়ে দেখে কখন গভীর নীলে মিশে গেছে সেই সব হূন।
