শতাব্দী শেষ কবিতাটি আলো পৃথিবী কাব্যগ্রন্থের রচিত। আলো পৃথিবী কবি জীবনানন্দ দাশ এর কাব্যগ্রন্থ। যা তার মৃত্যুর অনেক পর ১৯৮১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। তার অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলো নিয়ে যেসব কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয় এটি তার মধ্যে অন্যতম। এতে মোট ৬২টি কবিতা রয়েছে।

শতাব্দী শেষ
কবিতা: শতাব্দী শেষ
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: আলো পৃথিবী

সূর্যগরিমার নীচে মানুষের উচ্ছ্রিত জীবন
শুরু হ’ল- যখন সে শিশুর মতন;
নদীর জলের মতো আশা দিয়ে উচ্চারিত হয়ে
তবুও সে মানুষের মন।
রঙিন খেলনা, ঘোড়া, জাপানী লাটিম,
আরব্যোপন্যাসের সেই পরী জিন উড্ডীন বক
নিয়ে খেলে বিবেচনা ক’রে হয়ে যায়
ক্রমেই নিঃস্বার্থ বিবেচক।

অপরাবিদ্যার দিন ছাত্রের,
কলেজিয়ানের পুরস্কার,
অধ্যয়নবিলাসীর
দু’-চারটে পেপারকাটার
প’ড়ে থাকে তারপর মলিন টেবিল;
মানুষ নিজেকে নিজে চিনে
চ’লে যায় জীবনের চেয়ে আরও বড়ো
বাজেটের কমিটি মিটিঙে-

ভুলের ভিতর থেকে ভুলে-
গরিমার থেকে আরও গরিমার পানে,-
যেখানে আসন্ন কাল চিরকাল আগামীপ্রসবা:
আজও যা হয় নি সেই চরিত্রের পানে।
জীবনানন্দ দাশ বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷ জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী। মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷
আরও দেখুনঃ