১৩২৫-৪৪ কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর পাণ্ডুলিপি কাব্যগ্রন্থের ১০ম খণ্ডে রচিত। যা ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয়। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ-এর সাথে যৌথ সম্পাদনায় এটি প্রকাশিত হয়। কবির অগ্রন্থিত কবিতাবলি নিয়ে প্রকাশিত কবিতা সংকলনগুলোর একটি হলো পাণ্ডুলিপি। এই গ্রন্থটি মোট ১৪টি খণ্ডে বিভক্ত রয়েছে।

১৩২৫-৪৪ কবিতা
কবিতা: ১৩২৫-৪৪ কবিতা
কবির নাম: জীবনানন্দ দাশ
কবি: জীবনানন্দ দাশ
কাব্যগ্রন্থের নাম: পাণ্ডুলিপির কবিতা

সকলেরই তরে অগ্নি রয়ে গেছে- সূর্যের রশ্মির মতো অন্ধকার জীবাণুর কাছে।
কেবলই দেদীপ্যমান অধীর বিম্বের মতো প্রাণ
আপনাকে চিনে নেয়-
এই পৃথিবীর পথে বিকেলের প্রভাতের বিষম আলোয়
বিকেলের;- অথবা মুকুর থেকে- অথবা নদীর জল হতে যেন
সহসা বিমুক্তি পেয়ে- করতালি দিয়ে- হেসে-
কবেকার ভূতের মতন- নির্জন আগুন
আমাদের আলিসায় খেলা করে- বিবর্ণ দেয়ালে, মুখে।
১৩২৫ সাল থেকে উঠে দীর্ঘ বল্লমের মতো আলো
তেমনই মাঠের বুকে লেগে আছে আজ এই শব্দহীন
স্তিমিত বিকেলে; তবু আমি বীজাণুর মতো আজ
বধির দেয়াল আমি;- সোনালি অগ্নিও আত্মাহীন।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক৷ তিনি বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃতদের মধ্যে অন্যতম৷ তার কবিতায় পরাবাস্তবের দেখা মিলে৷ জীবনানন্দের প্রথম কাব্যে নজরুল ইসলামের প্রভাব থাকলেও দ্বিতীয় কাব্য থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন মৌলিক ও ভিন্ন পথের অনুসন্ধানী।
মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে বিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিনি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেন এবং ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে যখন তার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছিল, ততদিনে তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবিতে পরিণত হয়েছেন৷গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় নিসর্গ ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ জীবনানন্দের কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়, তাতে তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ অভিধায় খ্যাত হয়েছেন৷