আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি, ‘রূপসী বাংলার কবি’ জীবনানন্দ দাশের অগ্রন্থিত ও পরবর্তীকালে সংকলিত কবিতার ভাণ্ডার ‘ছায়া আবছায়া’ (২০০৪)-র একটি অত্যন্ত গভীর, পরাবাস্তব ও মরমী সৃষ্টি হলো ‘হাড়ের চিরুনি’। গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহের যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত এই গ্রন্থে কবির নিঃসঙ্গতা, মৃত্যুচেতনা এবং প্রকৃতির এক অন্যরকম রহস্যময় রূপ ফুটে উঠেছে।
কবিতার মূল তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
| কবিতার নাম | হাড়ের চিরুনি |
| কবির নাম | জীবনানন্দ দাশ |
| মূল কাব্যগ্রন্থ | ছায়া আবছায়া |
| প্রকাশের বছর | ২০০৪ (সম্পাদনা: গৌতম মিত্র ও ভূমেন্দ্র গুহ) |
| কবিতার ধরন | পরাবাস্তব ও মরমী লিরিক কবিতা (Surreal and Mystical Lyrical Poem) |
কবি পরিচিতি ও প্রেক্ষাপট
জীবনানন্দ দাশ বাংলা কাব্যে আধুনিকতার পথিকৃৎ এবং বুদ্ধদেব বসুর ভাষায় ‘নির্জনতম কবি’। তাঁর কাব্যে গ্রামবাংলার রূপ ও নিসর্গের পাশাপাশি গভীর জীবনদর্শন ও পরাবাস্তবতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়। মৃত্যুর বহু পরে ২০০৪ সালে প্রকাশিত ‘ছায়া আবছায়া’ কাব্যগ্রন্থটি তাঁর অগ্রন্থিত কবিতাবলির একটি মূল্যবান সংগ্রহ, যেখানে মোট একষট্টি (৬১) টি স্বতন্ত্র কবিতা রয়েছে। ‘হাড়ের চিরুনি’ কবিতায় জীবনানন্দের চিরচেনা মৃত্যু-আবহ, রূপকথার মতো রহস্যময়তা এবং অবচেতন মনের নিভৃত বেদনা অত্যন্ত শৈল্পিক রূপ লাভ করেছে।
হাড়ের চিরুনি – সম্পূর্ণ কবিতা
হাড়ের চিরুনি দিয়ে তোমার মাথার থেকে খুলে
সব চুল টেনে দিও হৃদয়ের ‘পরে
ডেকে নিও সব ঘুম চোখের ভিতরে
শিয়রে- পায়ের থেকে কাঠি রেখো তুলে
মোমের মতন ফেনা গলিতেছে তখন সাগরে
বালির মতন খ’সে সবুজ জলের তলে খুঁজে
তোমারে দেখিব আমি আছো চোখ বুজে
তখন সাতটি তারা আকাশের ‘পরে।
হাড়ের চিরুনি Romanized Version
Horer chironi diye tomar mathar theke khule
Sob chul tene dio hridoyer ‘pore
Dake nio sob ghum chokher bhitore
Shiyore- payer theke kathi rekho tule
Momer moton fena goliteche tokhon sagore
Balir moton kh’se sobuj joler tole khunje
Tomare dekhibo ami achho chokh buje
Tokhon shat-ti tara akasher ‘pore.
কবিতার মূল ভাব ও বিশ্লেষণ
-
পরাবাস্তব আবহ ও মৃত্যুচেতনা:
“হাড়ের চিরুনি দিয়ে তোমার মাথার থেকে খুলে / সব চুল টেনে দিও হৃদয়ের ‘পরে”— জীবনানন্দের কবিতায় জীবন ও মৃত্যুর সীমানা প্রায়শই মিলে যায়। ‘হাড়ের চিরুনি’ এবং চুল খোলার এই দৃশ্যকল্পটি এক অদ্ভুত গূঢ় রহস্য ও মৃত্যু-ছায়াঘেরা প্রেমের বার্তা বহন করে।
-
সবুজ জল ও সাতটি তারার নিস্তব্ধতা:
“বালির মতন খ’সে সবুজ জলের তলে খুঁজে / তোমারে দেখিব আমি আছো চোখ বুজে / তখন সাতটি তারা আকাশের ‘পরে।”— জীবনানন্দের কাব্যের চিরচেনা অনুষঙ্গ ‘সাতটি তারা’ এবং সবুজ জলের তলদেশ এক অন্তহীন নীরবতা, অবগাহন ও চিরন্তন মিলনের আবহ তৈরি করে।
উৎস
কবিতাটির মূল পাঠ, বানানরীতি এবং ঐতিহাসিক তথ্যাবলি জীবনানন্দ দাশের অগ্রন্থিত কবিতা সংকলন ‘ছায়া আবছায়া’ (২০০৪) থেকে সংগৃহীত ও যাচাই করা হয়েছে।