আজকে আমরা আলোচনা করবো শোক কবিতা নিয়ে। কবিতা টি লিখেছেন অক্ষয়কুমার-বড়াল।
অক্ষয়কুমার বড়াল
হেয়ার স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় অক্ষয়কুমার বড়াল বিহারীলাল চক্রবর্তীর কবিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। বিহারীলাল ছিলেন বাংলা গীতিকবিতার প্রবর্তক। তার অণুপ্রেরণায়ই বড়াল কবিতা রচনা শুরু করেছিলেন।

শোক কবিতা | অক্ষয়কুমার বড়াল

গোলাপের দলে দলে পড়িয়াছে হিমরাশি
আদরে দুলায় শাখা প্রভাত-পবন আসি ;
ঝরিতেছে হিমভার, সরিতেছে অন্ধকার,
পান্ডুর অধরে তার ফুটেছে রক্তিম হাসি |
ওগো, তুমি এস-এস, শ্বসিয়া সে প্রেমশ্বাস !
কতদিন আছি বেঁচে—ক্রমে হয় অবিশ্বাস !
এস মৃত্যু-দ্বার ভাঙ্গি, আকাশ উঠুক রাঙ্গি,
পড়ুক হৃদয় মোর তোমার হৃদয়াভাষ |
আবার দাঁড়াও, দেবী, দৃষ্টি-মুগ্ধ করি হিয়া,
নারীসম ভালবেসে সুখে দুখে আলিঙ্গিয়া !
কৈশোর কল্পনা সম, জড়ায়ে জীবন মম,
আধ স্বপ্ন-জাগরণে—জগতে আড়াল দিয়া | * *
ওই বছি—ওই ধূম—ওই অন্ধকার—
বিগত-জীবন স্বপ্ন, কিছু নাই আর !
জীবন প্রথম হ’তে ওই পথে ধাই—
কাহারো চরণচিহ্ন কূলে পড়ে নাই |
কি ঘন জলদে ঢাকা মৃত্যু-পরপার—
বায়ু না আনিতে পারে দূর সমাচার!
তপন কিরণে যায় সর্ব বিশ্ব দেখা,
কোথা চির-মিলনের উপকূল রেখা!
দুর্ভেদ্য দুস্তর শূণ্য, ক্ষুদ্রদৃষ্টি-নর ;
ওই বহ্নি, ওই ধূম! কিবা তারপর ?
